দীর্ঘদিন ঝুলে থাকার পর অবশেষে নিরাপত্তার কথা
চিন্তা করে পাকিস্তান সফর স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।
আর এই সিদ্ধান্তের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট
বোর্ড। বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্ত দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত
করতে পারে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে পিসিবি। সেই সঙ্গে বিপিএলে পাকিস্তানি
ক্রিকেটারদের অংশ নেওয়ার অনুমতি নাও দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।
গত বিপিএল -এ একজন ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ উঠেছিল,
নামটা নাসির জামসেদ -একজন খাঁটি পাকিস্তানি। ওরা না এলে বিপিএলটা অনেক
নির্ভেজাল হবে, নির্ভেজাল হওয়া কি খুবই ক্ষতিকর? যদি না হয়ে থাকে তবে পাকি
বোর্ডের ইঙ্গিত ফিঙ্গিতে ভ্রুক্ষেপ করার কোন মানে হয় না। আরও নয়টা টেস্ট
প্লেয়িং দেশ আছে; তাঁদের তো ওরা কিছু বলতে পারে না, ওদের টানাহেঁচরা শুধু
বাংলাদেশকে নিয়ে। যাদের দ্বারা সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি তাদের কাছে
অসহায়ের মত মাথা নত করতে হবে- আমাদের ক্রিকেট অবশ্যই সেরম দুরাবস্থায় নেই।
ধন্যবাদ বিসিবি, সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য... নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়ার
আগে নিরাপত্তা দেয়ার সামর্থ থাকতে হয়, ওদের সেটা নেই। সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত
সঠিক, কারন সাকিব আল হাসানদের কারখানায় উত্পাদন করা যায় না...
[January 01, 2012]
উদ্ভট কথা বার্তা
মুড ভাল না থাকলে এখনি বেড়িয়ে যাও...।
শুক্রবার, ৪ জানুয়ারি, ২০১৩
সোমবার, ১২ নভেম্বর, ২০১২
বাংলাদেশী
হুয়েং সান নামে এক চীনা পরিব্রাজক বহু শতাব্দী আগে, সম্ভবতঃ পাঠান শাসনামলে এই দেশ সফরে এসেছিলেন এবং মৎস্যভোজী বাঙ্গালীদের সম্পর্কে অনেক মজার মজার মন্তব্য করে গেছেন। এই দেশে এককালে বাঙ্গালী নামে এক জাতি ছিল। তাঁরা ছিল তণ্ডুল এবং মৎস্যভোজী, উদার, পরোপকারী এবং শান্ত ও সৎ প্রকৃতির। কিন্তু পৃথিবীতে যেমন ডাইনোসর থেকে শুরু করে বহু প্রাণীর বিলুপ্তি ঘটেছে, বহু আদিম জাতির বিলুপ্তি ঘটেছে তেমনি বাঙ্গালী জাতিটিরও বিলোপ সাধন হয়েছে। এই জাতির শেষ স্পেসিমেন যিনি ছিলেন, তাঁকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। এখন এই গাঙ্গেয় উপত্যকায় এক নতুন জাতির উৎপত্তি ঘটেছে। তাঁর নাম বাংলাদেশী। তাদের পোশাক আলাদা, চুলের ছা’ট আলাদা; এমন কি চরিত্রও আলাদা। আগের সেই সৎ, শান্ত, উদার, পরোপকারী বাঙ্গালী জাতি আর নেই। তার বদলে হিংস্র, খুনী, ছিনতাইকারী, কালবাজারী, দেশের সম্পদ পাচারকারী, নারী পাচারকারী এক নতুন জাতির অভ্যুদয় ঘটেছে। যারা সবসময় একে অপরের দিকে কাঁদা ছোড়াছুড়িতে ব্যস্ত থাকে......তাদের জাতীয় স্বাধীনতার ঘোষকও আলাদা। এমনকি জাতীয় দর্শনও আলাদা।
পাশ্চাত্যে একদা এক দার্শনিক জন্ম নিয়েছিলেন। তিনি তার দর্শনের নাম দিয়েছিলেন মায়াবাদ। অর্থাৎ তুমি যা চোখের সামনে দেখছো, তার কিছুই সত্য নয়; সবই ভ্রম বা বিভ্রান্তি। বাংলাদেশী জাতি এখন তাদের জাতীয় দর্শন হিসেবে এই মায়াবাদকে গ্রহন করেছে। এই মায়াবাদী দর্শনে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলাদেশী জাতির মন্ত্রী [১৯৯৩] ও নেতারা একযোগে বলেন…… বাংলাদেশের এতকালের ইতিহাস সত্য নয়, জাতির পিতা সত্য নয়; এগুলো সবই বিভ্রম বা মায়া। আর তাঁরা যে সব কল্পিত নতুন কথা শোনাচ্ছেন, তাই হচ্ছে সত্য।
আবদুল গফ্ফার চৌধুরীর কলাম অবলম্বনে……….
রবিবার, ২৮ অক্টোবর, ২০১২
ক্রিকেট এবং ‘অক্রিকেট’
গত ইন্ডিয়া –পাকিস্থান
ম্যাচ নিয়ে ফেইসবুকে অনেক বিতর্কিত পোষ্ট দেখলাম….।
নানা রকম পোষ্ট,
“ইন্ডিয়া আমাদের এ দেয় না সে দেয় না, পাকিস্থান আমাদের সাথে এ করেছে সে
করেছে তবু আমরা নির্লজ্জের মত তাদের সমর্থন
দিয়ে যাচ্ছি...”
বিতর্কের বিষয়গুলো
নতুন নয়- অনেক পুরনো। দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদ নিয়ে বিতর্ক!
তাদের অভিযোগ
গুলোও মিথ্যে নয় –ভয়াবহ সত্যি।
একজন লিখেছে, ‘যাদের
ইন্ডিয়া জিতছে, দয়া করে তারা
ইন্ডিয়া গিয়া নাচেন। আর যাদের পাকিস্তান হারছে, তারা দয়া করে পাকিস্তান গিয়া কান্দেন!
বাংলাদেশটারে
আপনাগো মত রামছাগলের হাত থেকে অন্তত রক্ষা করেন’!
আরেকজন লিখেছে,
‘দশটা টেস্ট প্লেয়িং দেশের মধ্যে একমাত্র দেশ ইন্ডিয়া যারা আমাদের কখনো
তাঁদের দেশে খেলতে আমন্ত্রণ জানায় নি, এর পরেও যারা ইন্ডিয়াকে সাপোর্ট করে তাঁরা
কি দেশের ভালো চায়’।
গত সাত -আট বছরে ইন্ডিয়াতে
অনুষ্ঠিত ম্যাচ গুলোর পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখলে দেখা যায় সবগুলো
বড় দলের (including Australia) যারাই ইন্ডিয়াতে খেলতে এসেছে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে তাঁরা সবাই গোহারা হেরে
বাড়ি ফিরেছে। আর ক্রিকেটটা ইন্ডিয়াতে খেলার সাথে বাণিজ্যও বটে। বড়রাই যেখানে পাত্তা
পায় না সেখানে বাংলাদেশ
আরো খারাপ করবে, এতে ম্যাচ গুলো জমবে না -দর্শক মাঠে আসবে
না, BCCI আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে আর নিজেদের ক্ষতি করে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো... ইন্ডিয়ানদের কাছে এতবড় ‘বিদেশ প্রেম’ আশা করা… একটু বেশী হয়ে যাচ্ছে না…। “ওরা
আমাদের পানি দেয় না, সীমান্তে আমার দেশের লোকজনদের বর্বরের মত গুলি করে
মারে -তবু
শালা ওদের সমর্থন করিস”
-ইন্ডিয়া ক্রিকেট সমর্থকদের উপর যারা এমন উত্তপ্ত বাক্য নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে তাদের
বলতে চাই, শচীন
-শেবাগের শৈল্পিক ব্যাটিংয়ে ওরা শুধু মুগ্ধ হতে জানে, পানি না দেয়া -গুলি করা এতে শচীন- শেবাগদের কোন হাত নেই এ ব্যপারেও তাঁরা খুব সম্ভবত নিশ্চিত। কিন্তু হ্যাঁ, BAN vs IND তে খেলা হচ্ছে তখন যদি বাংলাদেশের কেউ প্রার্থণায়
বসে বলে, “ওহঃ God শচীনের
উইকেটটা আগলে রেখো” -তখন তার গালে জুতা দিয়ে কষে চড় মারা উচিত্ (হাত দিয়ে মারলে হাত নোংরা হবে)। As a fan শচীনের
জন্য প্রার্থনা করার অধিকার তার আছে কিন্তু নিজের দেশের প্রতি আবেগ –ভালবাসা
বিসর্জন দিয়ে, ভুলে গিয়ে নয়।
“আমাদের বাংলায় কথা বলার অধিকারটুকু কেঁড়ে নিতে চেয়েছিল, ’৭১ -এ আমাদের
উপর অমানুষের মত হত্যাকান্ড চালিয়েছে…” – সেই ছোট বেলা
থেকেই পাকিস্থান নামটা সবসময় শুধু এরকম রক্তগরম করা বাক্যগুলোর
সাথেই খুঁজে পাই।
বাংলাদেশকে
কেন্দ্র করে পাকিস্থান নামটির সাথে সম্পর্কিত ইতিহাস পর্যালোচনা করলে… ওতে বাংলায়
কথা বলা, বাংলাদেশে জন্ম নেয়া যে কোন বাংলাদেশী-ই রক্ত গরম হওয়ার মত যথেষ্ট উপাত্ত
খুঁজে পাবে ( এর জন্য ‘আবুল হোসেনের মত মস্ত দেশপ্রেমিক’ হতে হবে না)।
শুধুমাত্র
ক্রিকেট নিয়ে কথা বলতে চেয়েছিলাম কিন্তু এর বহির্ভূত বিষয়গুলোও এসে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের উপর
পাকিস্থানীদের বর্বরোচিত আচরণ বুঝার জন্য বাংলাদেশী হতে হবে না। পাকিস্থানীদের
কর্মকান্ড যে মোটেও ‘মানুষের মত’ ছিল না, অনুভূতি
সম্পন্ন পৃথিবীর যে কোন শান্তিকামী মানুষই এই কথা একবাক্যে মেনে নেবে।
এই যে একটা জাতির মহাকলঙ্কজনক একটা পরিচয়
এর পেছনের গল্পটা পাকিস্থানীদের প্রতি আমার মনে শুধু সহানুভুতি-ই জাগাচ্ছে।
“যার নির্দেশে বাংলাদেশে হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছিল সেই
ইয়াহিয়া খান
ছিল সামরিক শাসক, তৎকালীন উর্দু ভাষী খাঁটি পাকিস্থানীদের নির্বাচিত কেউ নয়। এই যে
তোমরা ’৭১ –এর বিভীষিকার জন্য সমস্ত পাকিস্থানী জাতিকে ধিক্কার জানাচ্ছ, কীভাবে প্রমাণ
করবে সেই সময়ের ‘ইয়াহিয়া কান্ডে’ সমস্ত পাকিস্তান জাতির সমর্থন ছিল।” – একজন খাঁটি
পাকিস্থানী যদি কোন বাংলাদেশীকে এই প্রশ্ন করে এর উত্তরে কী বলা যায়?
- আমার অন্তত এ প্রশ্নের উত্তর জানা নেই!
যতদিন বাংলাদেশ
থাকবে, ষোল’শ কিঃ মিঃ দূরের ওই জাতিটির প্রতি বাংলাদেশীদের শুধু ঘৃণাই বর্ষিত হবে,
ইতিহাসে লেখা থাকবে “পাকিস্তানীরা বাংলাদেশীদের অমানুষের
মত হত্যা করেছে”। একটা পুরো জাতিকে আজীবন এই কলঙ্ক নিয়ে বেঁচে থাকতে হবে।
জনৈক ওই
পাকিস্থানীর প্রশ্নের যতার্থ উত্তর না দিতে পেরে একজন বাংলাদেশীর মনে তাদের প্রতি
যদি সহানুভূতির জন্ম নেয় এটা কি খুব unnatural মনে হবে?
ক্রিকেট নিয়ে
শুরু করেছিলাম, আবার ক্রিকেটে ফিরে যাই। আফ্রিদির ছক্কা মারার বিশেষ ক্ষমতা, আজমলের
দুসরা দেয়ার ক্ষমতাতে মুগ্ধ হয়ে কোন বাংলাদেশী যদি তাঁদের ফ্যান বনে যায়, সেই
বাংলাদেশীর দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলা কি খুবই যৌক্তিক দেখাবে…?
ওদের পূর্বসূরিদের
দায় কেন ওদের উপর বর্তাবে? ওদের প্রতিভার যথাযথ মূল্যায়ন বাংলাদেশীদের কাছে কেন
ওরা আশা করবে না?
নাহ… অনেক হয়েছে,
বিতর্কিত বিষয়গুলো থাক -এবার শুধুই ক্রিকেট নিয়ে কথা বলবো।
ক্রিকেট
বাংলাদেশের জন্য সত্যি-ই আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।
ভাগ্যিস
ক্রিকেট আছে, নয়তো পুরো জাতি আমরা এক হতাম কী করে? শুধুমাত্র ক্রিকেটকে কেন্দ্র
করে আমরা পুরো জাতি ধর্মীয় ভেদাভেদ –সাম্প্রদায়িকতা ভুলে সবাই একসাথে দোয়া
চাই –প্রার্থনা করি বাংলাদেশের জন্য, God –ঈশ্বর -আল্লাহ’র কাছে।
আমরা যে আমাদের
এই দেশটাকে খুব খুব খুব ভালবাসি এটা উপলব্দি করতেও
ক্রিকেট অনেক সাহায্য করে। ফিরে যাও গত ২২ মার্চ –এর সেই রাতটিতে,
যেদিন বাংলাদেশ মাত্র দুই রানের জন্য এশিয়া কাপ মিস করলো। তেমন কিছু তো নয়, আমরা
যারা ভালমত খেতে পাই না ওই কাপ জিতলে অবশ্যই সেই সমস্যার সমাধান হয়ে যেত না।
তবুও কেন এত
কষ্ট পেয়েছিলাম? কষ্ট পেয়েছিলাম, কারণ আমরা জানতাম বাংলাদেশ ওই কাপ জিতলে ওটা গোটা
দক্ষিণ এশিয়ায় শ্রেষ্ঠত্বের স্মারক হয়ে উঠতো।
আসলে আমরা সবাই
আমাদের এই সোনার দেশটাকে খুব ভালবাসি।
বাংলাতে কথা
বলি, বাংলাতে হাসি- কাঁদি –ভাবি, বাংলাকে –বাংলাদেশকে ভাল
না বেসে আর উপায় কই আমাদের?
দেশের প্রতি
আমাদের এই যে গভীর ভালবাসা এটা খুব সম্ভবত আমাদের সহজাত প্রবৃত্তি থেকে আসে,
এর জন্য
মহাত্মা গান্ধী (The great soul) হতে হয় না।
[October 2, 2012]
আমাদের 'রানীনীতি'
“বিশ্বচোর বিশ্ব, বিশ্ববেহায়ার হাতে দেশ”
(Don’t worry কথাগুলো আমার নয়- খালাদা জিয়ার প্রেমে এখনো পড়িনি)।
গতকাল bdnews24.com -এ দেখলাম, হবিগঞ্জে ১৮ দলীয় জোটের জনসভায় বিরোধী দলীয় নেত্রী সরকারী দলকে উদ্দেশ্য করে এসব কথা বলেছেন।
prothom-alo.com -এ দেখলাম, শেখ হাসিনা বিপক্ষ দলকে উদ্দেশ্য করে বানী দিয়েছেন,
“ক্ষমতার জন্য ক্ষুধার্থ, কিন্তু কোন জনসমর্থন নেই।”(Don’t worry কথাগুলো আমার নয়- খালাদা জিয়ার প্রেমে এখনো পড়িনি)।
গতকাল bdnews24.com -এ দেখলাম, হবিগঞ্জে ১৮ দলীয় জোটের জনসভায় বিরোধী দলীয় নেত্রী সরকারী দলকে উদ্দেশ্য করে এসব কথা বলেছেন।
prothom-alo.com -এ দেখলাম, শেখ হাসিনা বিপক্ষ দলকে উদ্দেশ্য করে বানী দিয়েছেন,
প্রথম জনের কথায় আসি।
এই যে তিনি ক্ষমতাসীনদের “বিশ্বচোর” বিশেষণে ‘বিশেষণায়ীত’ করলেন... একটি বারও নিজেদের দিকে, নিজের ‘মহাসুপুত্রদের’ দিকে তাকানোর কথা ভাবলেন না...!!!
আসলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। তাঁদের ব্যপারগুলোতে আবাক হওয়াটাকেই ‘অবাক করা বিষয় মনে’ হচ্ছে।
কারণ আমাদের দুই নেত্রীই বাঙ্গালী। বাঙ্গালী মাত্রেই হন্যে হয়ে অন্যের শরীরের কাঁদা খুঁজবে –নিজের শরীরের কাঁদা দেখিয়ে দিলে রেগে খুন হবে।
আমাদের দুই নেত্রী-ই বা কেন ব্যতিক্রম হতে যাবেন। ইনাদেরও ওই একই কাজ অন্যের শরীরের কাঁদা খোঁজা। কাঁদা না থাকলে যোগার করে ছোড়াছুড়ি করা।
কাঁদা ছোড়াছুড়ি করতে করতে বলা বলি করা, “তোর শরীরে কাঁদা -তোর শরীরে কাঁদা - তোর শরীরে কাঁদা”। এই কাঁদা ছোড়াছুড়ি- বলাবলি চলতেই থাকে… কাঁদার মধ্যে ডুবে হাত-পা, নাক-মুখ বন্ধ না হওয়া অব্দি।
বিরোধী দলীয় নেত্রী বলেছেন ‘বিশ্ববেহায়ার হাতে দেশ’। ‘বিশ্ববেহায়া’ না ‘বিশ্বআত্মসন্মানী’ (বিশ্ববেহায়ার যথার্থ বিপরীত মাথায় আসছে না) -দেশ কার হাতে তা জানি না। তবে নিজেদেরকে –যারা তাঁদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করি- ‘সৌরবেহায়া’ ছাড়া আর কিছুই মনে হয় না।
দু’দলই নির্বাচনের আগে আমাদের দুধ খাওয়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে ঘোল খাওয়ায়।
ঘোল খেতে খেতে বিরক্ত হয়ে রেগেমেগে আমরা বলি, “দুধের কথা বলে ঘোল খাওয়াচ্ছিস! দাঁড়া নির্বাচনটা আসতে দে তোকে দেখে নেবো।”
এরপর দুধের আশায় আমরা অন্যজনকে নির্বাচিত করি- ভুলে যাই পাঁচ বছর আগে
সে-ও ঘোল-ই খাইয়েছিল।
নির্বাচন আসুক। নিজের ভোটাধিকার আমি নিজে খর্ব করবো যদি শুনি ব্যালট পেপারে “নাভোট” নেই।
আমার এ কথা শুনে অনেকে হয়তো অট্টহাসি দিয়ে বলবে, “তোর মত একটা ‘সস্তা’ ভোট দিক আর না দিক; এতে কারো কিছু এসে যায় না।”
কথাটা শোনা মাত্র একবাক্যে মেনে নেবো। এই ‘সস্তা’ ভোট দিক আর না দিক তাতে কারো কিছু এসে যায় না কিন্তু সস্তার বিবেকের অনেক কিছু এসে যায়।
[7 October, 2012]
একজন হুমায়ুন আহমেদ
হুমায়ুন আহমেদকে নিয়ে লিখতে বসেই আমার
আশেপাশের পাবলিক লাইব্রেরীগুলোর কথা মনে পড়ে গেল। সেখানে অবাক হয়ে দেখি হুমায়ুন
আহমেদের কোন বইয়েরই শারীরিক অবস্থা ভাল নেই! তাঁর বইয়ের উপর দিয়ে এত ধকল গিয়েছে
যে, ২০ পৃষ্ঠার পর দেখা যায় ৩৬, ৪০ এর পর ৫৬….......!
লাইব্রেরীর পাঠকদের হুমায়ুন আহমেদ -এর
ব্যপারে কিছু জিজ্ঞেস করলে তাঁর বিষয়ে তারা এমন সব বর্ণনা দেন…মনে হয় তারা সবাই যেন তাঁকে নিয়ে রীতিমত গবেষণা করে
ফেলেছে! তাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা হুমায়ুন আহমেদ লেখেন বলে তারা পাঠক। পক্ষান্তরে বাংলা সাহিত্যের অনেক বড় বড় লেখকের
বই গুলো এত ভাল আছে যে, অনেক বছর ধরে লাইব্রেরীতে থাকার পরও বইয়ের দোকানে ওগুলো
রেখে দিলে- অনায়াসে নতুন বই পরিচয় নিয়ে বিক্রি হয়ে যাবে।
দিনাজপুরের প্রত্যন্ত একটি এলাকায় বসে
প্রত্যন্ত এলাকার লাইব্রেরী গুলোর কথা এতক্ষণ বললাম। আমি জানি যে, যেখানে আমি বসে
আছি সেখানে বসে ‘হুমায়ুন’-এর ব্যপারে চূড়ান্ত মীমাংসায় যাওয়া বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়।
তবে যেখানে বসে আছি…ইন্টারনেটের বদৌলতে সেখানে বসেই, দেশে ‘একজন হুমায়ুনের’ প্রভাব কতটা
সুদূর প্রসারী তা সহজেই আচ করতে পারি।
তাঁর সম্পর্কে যতটুকু পড়েছি-যতটুকু জেনেছি...শুধু
একটা কথাই বলতে পারি, সাহিত্যাকাশে হুমায়ুন নক্ষত্রের যে দীপ্তি তা অন্য যেকোন
লেখিয়ের মনে হিংসার উদ্রেক করার জন্য যথেষ্ট। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে সেই নক্ষত্র
কোন আকাশে জ্বলছে? সেটা কি ‘পৃথিবী একটি
থালার মতো অনেকগুলো হাতি এ থালা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে’- এমনটা যারা
ভাবছে তাদের আকাশ, নাকি যারা ’যান নিয়ে কত
জোরে গেলে পৃথিবীর মধ্যাকর্ষণ ভেদ করা যাবে সেই ভাবনায় মত্ত তাদের আকাশ?
এখানে একদল যখন তাঁর উপন্যাসকে ‘অপন্যাস’ বলছে আরেকদল
তখন তাঁর বাড়ির সামনে গিয়ে তাঁরই সৃষ্ট কাল্পনিক চরিত্রের ফাঁসির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ
করছে।
মনে অনেক প্রশ্ন জাগে…একজন লেখকের লেখার মান কে/কারা বিচার করবে?
কয়েকজন ‘মহাজ্ঞানী’ নাকি কয়েক
লক্ষ্য পাঠক?
কেউ তাঁকে বাংলা সাহিত্যের সিংহাসনে দেখে - দেখতে পান বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার এক যুগ। অন্য লেখকরা
নাকি তাঁর জন্য গড়ে উঠছে না। এর জন্য তারা হুমায়ুন আহমেদকে অনেকাংশেই
দায়ী করেন। তাদের মতে অনেক সুস্থ পাঠককে তিনি আটকে দিচ্ছেন গাঁজার নেশার মতো করে, পাঠকের হাত ধরে গড়ে উঠতে পারে এমন সম্ভাবনাময় অনেক লেখকের বেড়ে ওঠাকে তিনি প্রতিহত করছেন।
কোন লেখকের সমালোচনা করার সময় সমালোচকদের একটা কথা মাথায় রাখা উচিৎ সেটা
হল, কোন কোন শ্রেণীর পাঠক সেই লেখকের ভক্ত। এদের
মধ্যে বুদ্ধিজীবী আর বুদ্ধিহীণদের অনুপাতটা কেমন? যেটা পছন্দ হচ্ছেনা সেটা খারাপ বলাটা সমালোচনা নয়,
নিন্দা। একজন লেখকের লেখার
মান নিয়ে নিন্দা করা অর্থ তাঁর ভক্ত পাঠকদের পছন্দ,
রুচিবোধ, বিচার-বুদ্ধিকে প্রশ্ন বিদ্ধ করা।
আপনাকে ‘হুমায়ুন’ ভাল লাগে না তাই তাঁর
সময়টাকে আপনি ‘অন্ধকার যুগ’ বলে ঘোষণা দেবেন, খামখেয়ালী - জীবন সম্পর্কে উদাসীন আপনি
তাঁর ‘হিমু’ কে ‘মাস্টারপিস’ ভাববেন এমনটা হতে পারে না।
সাহিত্যাকাশে নক্ষত্ররুপী একজন লেখক
কতযুগ ধরে জ্বলবেন তা নিয়ে ভবিষ্যদানী করা নিজেকে গড হিসেবে জাহির করার বৃথা
চেষ্টার নামান্তর ছাড়া আর কিছুই নয়।
এতক্ষণ যাঁরা আমার এ লেখা পড়লেন তাঁরা
নিশ্চয়ই হুমায়ুন আহমেদের প্রতি আমার সুক্ষ (অথবা স্থুল) পক্ষপাতিতা লক্ষ্য করেছেন।
মিথ্যে বলা হবে যদি বলি তাঁর ‘ভক্তপাঠক’ কূলের লিস্টে আমার নাম কখনোই ছিল না।
একটা সময় ছিল যখন জীবন সম্পর্কে হতাশ এই
প্রদীপ তাঁর ‘মেঘ বলেছে যাবো যাবো’ -তে ‘হাসান’ চরিত্রটির মাঝে নিজেকে খুঁজে পেত। ‘নন্দিত
নরকে’-র পারিবারিক সমস্যার কাছে যার পারিবারিক সমস্যা ম্লান হয়ে যেত। ‘হিমু’-র
অযৌক্তিক কথাবার্তা, অস্বাভাবিক জীবনযাপন দেখে মুখে হাসি ফুটিয়ে যে বেঁচে থাকার
আনন্দ খুঁজে নিত।
একটা সময় ছিল যখন এই প্রদীপ ‘মিসির আলি’-কে
অভিভাবক জ্ঞান করত।
কিন্তু আজ এ প্রদীপ মনে হয় অকৃতজ্ঞ হয়ে
গেছে। আজ হিমুর ‘হিউমারে’ সে আর কোন ‘সেন্স’ খুঁজে পায় না। ‘হিমু এবং হার্ভাড
পিএইচডি বোলটু ভাই’, ‘হিমু এবং একটি রাশিয়ান পরি’ এসব পড়ে যারপরনাই বিরক্ত - ওগুলো
ছিঁড়ে না ফেললে যেন তার স্বস্তি নেই। ‘অভিভাবকের’
লিস্টে ‘মিসির আলি’ যেন শুধু একটি ‘পুর্বসূরির’ নাম….!
আজ ‘হুমায়ুন সাহিত্যের’ দিকে তাকালে মনে
হয় সেখানে শুধু হাহাকার ছাড়া যেন আর কিছু নেই। সেখানে ‘The Inheritance of Loss’, ‘The
God of Small things’, ‘The Old Man and the Sea’-র মত উপন্যাসের হাহাকার। মনে
প্রশ্ন জাগে কেন তিনি এরকম great উপন্যাস লিখলেন না? মনে আপসোস জাগায় সেই বিশ্বাস
যে এরকম উপন্যাস লেখার ক্ষমতা তাঁর সবসময়ই ছিল।
[June 24, 2012]
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যসমূহ (Atom)

