সোমবার, ১২ নভেম্বর, ২০১২

বাংলাদেশী


হুয়েং সান নামে এক চীনা পরিব্রাজক বহু শতাব্দী আগে, সম্ভবতঃ পাঠান শাসনামলে এই দেশ  সফরে এসেছিলেন এবং মৎস্যভোজী বাঙ্গালীদের সম্পর্কে অনেক মজার মজার মন্তব্য করে গেছেন। এই দেশে এককালে বাঙ্গালী নামে এক জাতি ছিল। তাঁরা ছিল তণ্ডুল এবং মৎস্যভোজী, উদার, পরোপকারী এবং শান্ত ও সৎ প্রকৃতির। কিন্তু পৃথিবীতে যেমন ডাইনোসর থেকে শুরু করে বহু প্রাণীর বিলুপ্তি ঘটেছে, বহু আদিম জাতির বিলুপ্তি ঘটেছে তেমনি বাঙ্গালী জাতিটিরও বিলোপ সাধন হয়েছে। এই জাতির শেষ স্পেসিমেন যিনি ছিলেন, তাঁকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। এখন এই গাঙ্গেয় উপত্যকায় এক নতুন জাতির উৎপত্তি ঘটেছে। তাঁর নাম বাংলাদেশী। তাদের পোশাক আলাদা, চুলের ছাট আলাদা; এমন কি চরিত্রও আলাদা। আগের সেই সৎ, শান্ত, উদার, পরোপকারী বাঙ্গালী জাতি আর নেই। তার বদলে হিংস্র, খুনী, ছিনতাইকারী, কালবাজারী, দেশের সম্পদ পাচারকারী, নারী পাচারকারী এক নতুন জাতির অভ্যুদয় ঘটেছে। যারা সবসময় একে অপরের দিকে কাঁদা ছোড়াছুড়িতে ব্যস্ত থাকে......তাদের জাতীয় স্বাধীনতার ঘোষকও আলাদা। এমনকি জাতীয় দর্শনও আলাদা।
          পাশ্চাত্যে একদা এক দার্শনিক জন্ম নিয়েছিলেন। তিনি তার দর্শনের নাম দিয়েছিলেন মায়াবাদ। অর্থাৎ তুমি যা চোখের সামনে দেখছো, তার কিছুই সত্য নয়; সবই ভ্রম বা বিভ্রান্তি। বাংলাদেশী জাতি এখন তাদের জাতীয় দর্শন হিসেবে এই মায়াবাদকে গ্রহন করেছে। এই মায়াবাদী দর্শনে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলাদেশী জাতির মন্ত্রী [১৯৯৩] ও নেতারা একযোগে বলেন…… বাংলাদেশের এতকালের ইতিহাস সত্য নয়, জাতির পিতা সত্য নয়; এগুলো সবই বিভ্রম বা মায়া। আর তাঁরা যে সব কল্পিত নতুন কথা শোনাচ্ছেন, তাই হচ্ছে সত্য।



আবদুল গফ্ফার চৌধুরীর কলাম অবলম্বনে……….

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন